মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

৳ 180 ৳ 100

মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. সারাজীবন বাতিলের বিরুদ্ধাচার করেছেন। সারা বাংলায় মাদ্রাসার জাল বিছিয়েছেন। মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. এর নির্দেশে বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সূচনা করেন। দুর্বার গতিতে দাওয়াতি কাজ করেছেন। হযরত হাফিজ্জি হুজুর একবার বলেছিলেন, যদিও আমরা একসাথেই ছাত্র ছিলাম, তথাপি তিনি ছিলেন আমার উস্তাজের মত। তাকওয়া ও পবিত্রতার এক অদ্ভুত নমুনা ছিলেন!

লেখক

প্রকাশনী

পৃষ্ঠা

176

ভাষা

চন্দ্র বাবুর পাঠশালা থেকে হাতেখড়ি, এরপর বরিশালের সুটিয়াকাঠি স্কুলে, সেখান থেকে গিমাডাঙা স্কুল, তারপর যশোরের ভাগুটিয়া হাইস্কুল। এইযে এতগুলো স্কুলে পড়লেন, কখনোই প্রথমস্থান অর্জন ছাড়া উপরের ক্লাসে উঠেনি।

এরপর ভর্তি হলেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার এ্যাংলো পার্শিয়ান ডিপার্টমেন্টে। যেটার পাঠদান মাধ্যম হলো ইংরেজি ভাষা। ১ম সাময়িক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। সবাই হতবাক! বাঙালী ছেলেটাই ১ম স্থান অর্জন করে নিলো। এভাবে ক্রামান্বয়ে সবগুলো পরীক্ষাতেই ১ম স্থান।

এরপর ক্লাস টেনে পড়ার সময় মাওলানা আশরাফ আলী থানভীর সাথে সাক্ষাৎ হলো। সালাম মুসাহাফার পর হাকীমুল উম্মতকে বললেন –

” হযরত, দু’আ কি যিয়ে, কে খোদা মুঝে ছীরাতে মুস্তাকীম পর কায়েম রাখ্যে! ”

হযরত থানভী তাঁর এত সারগর্ভময় কথা শুনে চমকে উঠলেন।

জিজ্ঞেস করলেন, ” তোম কিয়া পড়তে হো?

উত্তর দিলেন, ” ইংরেজি”

হযরত থানভী বিস্মিত! বললেন,

” তুম ইলমে দ্বীন কিউ নেহি পড়তে হো? ”

ক্রন্দনরত অবস্থায় বললেন,

” ম্যায় তো ইলমে দ্বীন পড়নে কে লিয়ে তৈয়ার হোঁ, মাগার মেরে বাপ নেহি দেতা। ”

হযরত থানভী আক্ষেপ করে বলেন,

” হায় আফসোস! এইসা যামানা আগায়া কে লারকা ইলমে দ্বীন পড়নে চাহতা হ্যায় মাগার বাপ নেহি দেতা ”

এরপর পড়লেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেখানে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক আসলেন একটা সেমিনারে। সেমিনার চলাকালীন নামাযের সময় হয়ে গেলো। কিন্তু বক্তৃতা থামছে না। শামসুল হক ফরিদপুরী গুরুগম্ভীর আওয়াজে প্রধানমন্ত্রীকে বললেন-

” It is time of Prayer. Please, let us now pray to Allah the Almighty! ”

বক্তৃতা বন্ধ হয়ে গেলো। সকলে নামাযে চলে গেলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। অনেকে মোল্লা মোল্লা বলে গালি দিচ্ছিলেন। আর ঠিক তখন উনি প্রতিজ্ঞা করলেন, ঠিকাছে! আমি তবে মোল্লাই হবো।

এরপর হযরত থানভীর পরামর্শে সাহারানপুর মাদ্রাসায় ভর্তি হলেন। সেখানে ৪ বছর পড়ে এরপর আসলেন দারুল উলুম দেওবন্দ। এখান থেকে প্রথমস্থান অর্জনকারী আ’লিম হয়ে বের হলেন। এরপর থানাভবনে হযরত থানভীর সুহবাত নিলেন দীর্ঘদিন। অর্জিত ইলমকে সীনার সাথে লেপ্টে নিলেন। ইলমুল জাহিরের সাথে ইলমুল বাতিনের উচ্চশ্রেণীর এক পথিক হলেন।

এরপর হযরত থানভীর নির্দেশে বাংলায় ফিরে এলেন। সারা বাংলায় মাদ্রাসার জাল বিছালেন। দুর্বার গতিতে দাওয়াতি কাজ করলেন। মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী রহ. এর নির্দেশে বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের সূচনা করেন। পাকিস্তান সরকারের কোন প্রশাসনকে পাত্তা দেননি ইসলামের হুকুমতের সামনে।

একটা ঘটনা বলি। তখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান। লালবাগ মাদ্রাসায় হযরতের সাথে সাক্ষাত করতে এলেন। মোনায়েম খান সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করল,

” হুজুর, আমি কি ভিতরে আসতে পারি? ”

হযরত অনুমতি দিলে প্রবেশ করল। এরপর আবার বলল,

” হুজুর, আমি উপরে বসব, না নিচে? ”

হযরত বললেন, ” আপনার যেখানে মন চায় বসুন। ”

এরপর গভর্নর বললেন, ” হুজুর, আমার আগমনে আপনি কি খুশি? ”

হযরত বললেন, ” মোটেই খুশি না। কারণ পীর ফকিরদের নিকট রাজা বাদশাহদের আগমন মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। সাধারণত তারা দুনিয়ার জন্যই এসে থাকে। আর আ’লিমদের মধ্যে ঐ আ’লিমই অধিক নিকৃষ্ট যে ধনীর দরবারে পড়ে থাকে। ”

মোনায়েম খান বলল, ” আচ্ছা, আপনি আমায় সম্মান করে উপরে বসতে বললেন না কেন? ”

হযরত বললেন, ” জালিমকে সম্মান করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে। আমি চাই না, আমার কোন কার্যকলাপে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠুক। ”

গভর্নর মোনায়েম খানের মুখ মলিন হয়ে গেল। বলল, ” তাহলে কি আমি জালিম? ”
শামসুল হক ফরিদপুরী আরো দৃড় কন্ঠে বললেন,

” আমি আপনাকে আর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানকে জালিম মনে করি।আপনারা মুসলিম পারিবারিক আইন পাশ করেছেন। কুরআন ও হাদীসের সীমালঙ্ঘন করেছেন। তাই আপনারা জালিম। ”

এভাবেই সারাজীবন বাতিলের বিরুদ্ধাচার করেছেন। হযরত হাফিজ্জি হুজুর একবার বলেছিলেন, যদিও আমরা একসাথেই ছাত্র ছিলাম, তথাপি তিনি ছিলেন আমার উস্তাজের মত। তাকওয়া ও পবিত্রতার এক অদ্ভুত নমুনা ছিলেন!

সেই হিন্দুপাঠশালার ছাত্র দুনিয়া থেকে ১৯৬৯ সালে বিদায় নিলেন যামানার বিখ্যাত আ’লিম হয়ে।

আল্লাহ জাল্লা শানহু তাঁকে রহমত ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিক।

1 review for মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.

  1. Imran

    A very good book. Besides knowing about our ‘akabir’, one will also have some idea about Sayid Moududi, Pakistan before independence of Banglades and many others. Also the writer is of high qualit.

Add a review

১ম ধাপ: পছন্দের বইটিকে CART এ এড করুন। অর্থাৎ 'এখনই কিনুন' বাটনে ক্লিক করুন
২য় ধাপ: এবার আপনার CART পেজ এ যান। (ওয়েবসাইট এর উপরের ডান কোণায় CART মেনুতে যান এবং VIEW CART এ ক্লিক করুন)
৩য় ধাপ: আপনার কার্ট আইটেমগুলো দেখে নিন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে Proceed to Checkout এ চলে যান।
৪র্থ ধাপ: আপনার শিপিং ঠিকানা ও বিবরণ দিন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
৫ম ধাপ: এরপর PLACE ORDER এ ক্লিক করুন।

একাধিক বই কিনতে: যতগুলো বই কিনতে চান সবগুলো CART এ এড করুন, তারপর চেকআউট করুন।

আপনি অর্ডার করার পর, আমরা পেমেন্ট চেক করবো এবং আপনার বই/বইগুলো ডেলিভারি দেয়া হবে। যে কোনও প্রকার হেল্প এর জন্য আমাদের ফোন অথবা মেইল করুন।