ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস ও কারবালার সঠিক ইতিহাস

৳ 230 ৳ 138

উসমান রা. এর খিলাফাত। নম্রতা, লাজুকতা ও বিনয়ের আধার এ সাহেবে নবী আবূ বকর রা. ও উমর রা. এর সুন্নাতের আলোকে পরিচালনা করে যাচ্ছেন ধরণী। প্রসারিত করছেন ইসলামের হাত। কিন্তু কুরআনে ঘোষণা দেয়া চিহ্নিত শত্রু ইহুদীরা মর্মে মর্মে জ্বলছিল। আশায় জ্বল জ্বল করছিল, কবে ভাঙন ধরবে এ একতাবদ্ধ মুসলিম উম্মাহয়। ভাঙনের বীজ তারা প্রোথিত করেছিল ২৫ হিজরীতে আব্দুল্লাহ্ বিন সাবা’র ছদ্মবেশে মুসলিম সেজে মুসলিম উম্মাহয় জায়গা করে নেয়ার মাধ্যমে। উমরের খিলাফাতে তার অন্তর্ভুক্তি হলেও সে সচল হয় উসমানের খিলাফাতকালে। তার লোকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠিয়ে দেয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। উদ্দেশ্য – গভর্নরদের ব্যাপারে লোকজনকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। বিভেদ তৈরী করা। অনেকটা সফলও হয় তারা। উসমান রা. তাদের প্রতিরোধের অনেক চেষ্টা করলেও হত্যা করার মত মন সৃষ্টি করে উঠতে পারেন নি। কেননা মুনাফিকদের হত্যার মত দৃষ্টান্ত তাঁর পূর্ববর্তী যুগে কেউই রেখে যান নি। না নবীজী, না আবূ বকর, না উমর। ফলশ্রুতিতে বাস্তবায়িত নবীজীর ভবিষ্যদ্বাণী। শহীদ হয়ে ইফতার করেন সারওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে। পরবর্তী খলীফা নির্ধারণের সময় আসে। একদল সাহাবী চান, আগে উসমান হত্যার বিচার হোক, এরপর খলীফা নির্ধারণ। আরেকদল চান, আগে খলীফা নির্ধারণ করে উম্মাতকে শৃঙখলায় আনা হোক এরপর উসমান হত্যার বিচার। হত্যার বিচারের ব্যাপারে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু পদ্ধতি নিরূপণের মতভেদে হয়ে যান বিভক্ত, দুই দল। সাবায়ীদের চাপে এবং সততঃই উত্তরসূরী হওয়ায় অনেক সাহাবায়ে কেরামের সমর্থনে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আলী রা.।এতে মতানৈক্য হয় মুআ’বিয়া, তালহা, যুবায়ের, আয়শা রা. দের সাথে। সর্বপ্রথম বিভেদ মুসলিম উম্মাহয়। সাবায়ীদের চক্রান্তে যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। জঙ্গে জামাল ও সিফফীনের রক্ত-নদীর প্রতিটি ফোঁটায় মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র। একে পুঁজি করে অনেকেই, ইসলাম নামধারী নির্দিষ্ট দলের আদর্শ ব্যক্তিও সাহাবায়ে কেরামদের কাউকে কাউকে কাফের আখ্যা দেয়। আফসূস তাদের, যারা তার ভ্রান্ততা জেনেও অনুসরণ করে, যারা জানার চেষ্টা না করে চুপ থাকে! এ বিভক্তির অবসান হয় আলী রা. এর শাহাদাত ও হাসান রা. এর ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে। সায়্যিদুনা হাসান রা.র মাঝে প্রকাশিত হলো তার নানা সায়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী যে – এ ইসলামের দুই দলের মাঝে সন্ধি স্থাপন করবে।
এসব ঐতিহাসিক সত্যের তিক্ততা ও রক্তের নদীর লাল-উপাখ্যানই হলো ‘ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস ও কারবালার সঠিক ইতিহাস’।

SKU: islami-khelafot-dhongsher-prokrito-itihash-karbalar-sothik-itihash Categories: , , ,
লেখক

প্রকাশনী

পৃষ্ঠা

176

ভাষা

এক সময়কার দোর্দন্ড প্রতাপশালী মুসলিম সম্প্রদায় আজ ঝিমিয়ে আছে, অনেকটা এমন যেন, বিধর্মীদের তাড়া খেয়ে লেজ গুটিয়ে গর্তে আত্মগোপন করেছে। কিন্তু সন্দেহ নেই, একদিন এরাই আবার গর্জে উঠবে। ক্ষুধার্ত শার্দুলের ন্যায় ঝান্ডা উঁচিয়ে আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে কাঁপাবে পৃথিবীর প্রতিটি কোণ, যেমনটি ছিল শুরুর দিকে। সোনালী খেলাফতে। আ’হদে নববী ও খেলাফতে মুবারাকার শান্তিময় সাম্রাজ্যে। তবে আজ কেন এ অবস্থা এক সময়ের শত্রুশিবিরের আতঙ্কদের? এর পিছনে রয়েছে করুণ ইতিহাস, অসহনীয় ব্যথা। সে ব্যথাকেই ভাষা দিতে চেয়েছেন বইটির লেখক। সে করুণ বীণের আওয়াজে শব্দ আঁকতে চেয়েছেন। তুলে ধরেছেন সংক্ষেপে সবটা ভুল, ব্যর্থতা।
বইটিকে লেখক সাজিয়েছেন চারটি অধ্যায়ে। প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন মূল ইতিহাস। যার সার-সংক্ষেপ অনেকটা এমনঃ
ইহুদীরা সব সময়ই বিরোধীতা করে আসছে ইসলামের। প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে। স্বরুপে, মুসলিমরুপী মুনাফিক সেজে। পবিত্র যুগে, পরবর্তী যুগে। যার স্বল্প কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। ইহুদীদের শাস্তি দিয়েছেন বটে, কিন্তু নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি বিভিন্ন হিকমাতের প্রতি লক্ষ্য করে কঠিন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি মুনাফিকদের ব্যাপারে।
তখন উসমান রা. এর খিলাফাত। নম্রতা, লাজুকতা ও বিনয়ের আধার এ সাহেবে নবী আবূ বকর রা. ও উমর রা. এর সুন্নাতের আলোকে পরিচালনা করে যাচ্ছেন ধরণী। প্রসারিত করছেন ইসলামের হাত। কিন্তু কুরআনে ঘোষণা দেয়া চিহ্নিত শত্রু ইহুদীরা মর্মে মর্মে জ্বলছিল। আশায় জ্বল জ্বল করছিল, কবে ভাঙন ধরবে এ একতাবদ্ধ মুসলিম উম্মাহয়। ভাঙনের বীজ তারা প্রোথিত করেছিল ২৫ হিজরীতে আব্দুল্লাহ্ বিন সাবা’র ছদ্মবেশে মুসলিম সেজে মুসলিম উম্মাহয় জায়গা করে নেয়ার মাধ্যমে। উমরের খিলাফাতে তার অন্তর্ভুক্তি হলেও সে সচল হয় উসমানের খিলাফাতকালে। তার লোকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠিয়ে দেয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে। উদ্দেশ্য – গভর্নরদের ব্যাপারে লোকজনকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। বিভেদ তৈরী করা। অনেকটা সফলও হয় তারা। উসমান রা. তাদের প্রতিরোধের অনেক চেষ্টা করলেও হত্যা করার মত মন সৃষ্টি করে উঠতে পারেন নি। কেননা মুনাফিকদের হত্যার মত দৃষ্টান্ত তাঁর পূর্ববর্তী যুগে কেউই রেখে যান নি। না নবীজী, না আবূ বকর, না উমর। ফলশ্রুতিতে বাস্তবায়িত নবীজীর ভবিষ্যদ্বাণী। শহীদ হয়ে ইফতার করেন সারওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে। পরবর্তী খলীফা নির্ধারণের সময় আসে। একদল সাহাবী চান, আগে উসমান হত্যার বিচার হোক, এরপর খলীফা নির্ধারণ। আরেকদল চান, আগে খলীফা নির্ধারণ করে উম্মাতকে শৃঙখলায় আনা হোক এরপর উসমান হত্যার বিচার। হত্যার বিচারের ব্যাপারে সকলেই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু পদ্ধতি নিরূপণের মতভেদে হয়ে যান বিভক্ত, দুই দল। সাবায়ীদের চাপে এবং সততঃই উত্তরসূরী হওয়ায় অনেক সাহাবায়ে কেরামের সমর্থনে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আলী রা.। এতে মতানৈক্য হয় মুআ’বিয়া, তালহা, যুবায়ের, আয়শা রা. দের সাথে। সর্বপ্রথম বিভেদ মুসলিম উম্মাহয়। সাবায়ীদের চক্রান্তে যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। জঙ্গে জামাল ও সিফফীনের রক্ত-নদীর প্রতিটি ফোঁটায় মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র। এ বিভক্তির অবসান হয় আলী রা. এর শাহাদাত ও হাসান রা. এর ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে। সায়্যিদুনা হাসান রা.র মাঝে প্রকাশিত হলো তার নানা সায়্যিদুনা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী যে – এ ইসলামের দুই দলের মাঝে সন্ধি স্থাপন করবে।
এসব ঐতিহাসিক সত্যের তিক্ততা ও রক্তের নদীর লাল-উপাখ্যানই হলো ‘ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস ও কারবালার সঠিক ইতিহাস’।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে লেখক দা.বা. হযরত মুআ’বিয়া রা. এর কিছু কর্ম ও অবদান উল্লেখ করেছেন, যাতে করে ইসলামী লেবাসধারী যে ‘আল্লামা’গণ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও অপবাদের যে তুবড়ি ছোটান, তাদের কিছুটা হলেও জবাব হয়। হযরত মুআ’বিয়া রা. এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের প্রধান একটা হলো – ইয়াযিদকে পরবর্তী খলীফা নিয়োগ দেয়া। ধুন্ধুমার সমালোচনা ও মর্যাদার খেলাফ অনেক মন্তব্য হয় এ বিষয়টিকে ঘিরে। বইটি এর মর্মে পৌঁছতে অনেকটা সহায়তা করবে আপনাকে। ইয়াযীদকে কেন নির্বাচন করে ছিলেন, সে যোগ্য ছিল নাকি অযোগ্য – সে সবও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এতে।
তৃতীয় অধ্যায়ে লেখক তুলে ধরেন নবী পরিবারের রক্ত ঝরার কাহিনী। মুসলিম উম্মাহ’র হৃদয় ফেঁড়ে যাওয়া সে কঠিন ইতিহাস। কারবালা। অনেক অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তির বেড়াজালে বন্দি এ ঘটনাকে সত্য ও সাবলীলভাবে উপস্থাপনের প্রয়াস চালানো হয়েছে বইটিতে। এর সাথে জুড়ে রয়েছে অনেক বিদআ’তী কার্যকলাপ ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। অনেক কিছুর প্রামাণ্যতা ও অনেক কিছুর খণ্ডন করেছেন লেখক এখানে।
চতুর্থ অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে তারকাসম সাহাবায়ে কেরাম রা. এর মর্যাদা ও অধিকার। ইসলামের আলোর মশালধারী এ মহামনীষীগণের তরে আল্লাহর ভালোবাসা ও ক্ষমার ঘোষণার পরেও যারা তাঁদের ছিদ্রান্বেষণে ব্যস্ত থাকে, নবীজীর স্বতঃস্ফুর্ত ঘোষণার পরও যারা তাঁদের অনিচ্ছায় করে ফেলা কিছু কাজকর্মের তাঁদের সত্যের মাপকাঠির বাইরে মনে করে – তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন ধমকি। ফিদ্দুনইয়া ওয়া ফিল আখিরাহ্। কুরআন ও হাদীসের আলোকে উল্লেখিত এসব আলোচনা সাহাবায়ে কেরামের প্রকৃত মর্যাদা বুঝতে অনেকটা সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।
পঞ্চম অধ্যায় – সর্বশেষ অধ্যায়ে লেখক বর্তমান পরিস্থিতির আলোচনা করে সতর্ক করতে চেয়েছেন মুসলিম উম্মাহকে। যেসব জ্ঞানপাপী মুসলিমগণ এদের বেড়াজালকে দুনিয়ার বেহেশত ভাবছেন তাদের জন্যে এতে রয়েছে লাল সংকেত। এ পর্যায়ে লেখক এমন ছয়টি কঠিন ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কথা আলোচনা করেছেন যা সুস্পষ্ট ও অনস্বীকার্য। যে ষড়যন্ত্রের কালোথাবায় আক্রান্ত আজ অধিকাংশ মুসলিম। তিনি বারবার চেয়েছেন – এখনও যেন ফিরে আসে মুসলিম সমাজ। আবার গর্জে উঠে সেই সোনালী যুগের যুলফিকার-বেশে।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস ও কারবালার সঠিক ইতিহাস”

১ম ধাপ: পছন্দের বইটিকে CART এ এড করুন। অর্থাৎ 'এখনই কিনুন' বাটনে ক্লিক করুন
২য় ধাপ: এবার আপনার CART পেজ এ যান। (ওয়েবসাইট এর উপরের ডান কোণায় CART মেনুতে যান এবং VIEW CART এ ক্লিক করুন)
৩য় ধাপ: আপনার কার্ট আইটেমগুলো দেখে নিন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে Proceed to Checkout এ চলে যান।
৪র্থ ধাপ: আপনার শিপিং ঠিকানা ও বিবরণ দিন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
৫ম ধাপ: এরপর PLACE ORDER এ ক্লিক করুন।

একাধিক বই কিনতে: যতগুলো বই কিনতে চান সবগুলো CART এ এড করুন, তারপর চেকআউট করুন।

আপনি অর্ডার করার পর, আমরা পেমেন্ট চেক করবো এবং আপনার বই/বইগুলো ডেলিভারি দেয়া হবে। যে কোনও প্রকার হেল্প এর জন্য আমাদের ফোন অথবা মেইল করুন।