আমি যেভাবে পড়তাম

৳ 155

মূলত লেখকের নাম দেখেই বইটি হাতে নেয়া। কিতাবের পাতায় পাতায় ছিল জ্ঞানের হাতছানি। গ্রন্থের সূচনা হয়েছে রচয়িতার পড়া বিভিন্ন বইয়ের মাধ্যমে। পবিত্র কুরআন পূর্বেই হিফজ ছিল, পরবর্তীতে ইলম অর্জন শুরু হয় তাফসীর, হাদীস শরীফ, হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থ, ফেকাহ’র কিতাব, উসূলে ফেকাহার কিতাব, আকিদা বিষয়ক কিতাব, সীরাত বিষয়ক গ্রন্থ, যুহদ সম্পর্কিত গ্রন্থ, সাহিত্যের কিতাব ইত্যাদি দিয়ে। নিজের পড়া সম্বন্ধে লেখক বলেন,
.
“যখন আমার শৈশব ও খেলাধুলার বয়স শেষ হল, তখন কিতাবপত্রকে সাথি, সঙ্গী ও বন্ধু বানিয়ে নিলাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠি, তখনও কিতাব আমার সঙ্গী। সন্ধ্যা হয়, তখনও কিতাব আমার বন্ধু। ঘুমাই কিতাব বুকে নিয়ে। হাঁটতে থাকি কিতাব হাতে নিয়ে। কিতাবের জন্য পরিবার ও ভাই-পরিজনদের ছেড়ে দিলাম। বন্ধুবান্ধব বাদ দিয়ে ব্যস্ত হলাম কিতাবের সাথে। এ কারণে পার্কের আনন্দ ভ্রমণও বর্জন করলাম।
.
এমন এক যামানা আমার অতিবাহিত হয়েছে যে, অধ্যয়নের কারণে আমি বাড়ি থেকে বের হতাম না। কিছুদিন খাওয়া দাওয়ার সময়ও পড়তাম। খেতাম, পড়তাম। হাটতাম, পড়তাম। বন্ধুরা ঘুরে বেড়াত, আমি পড়তাম। লোকজন জমায়েত, তাদের আনন্দ-উল্লাস দেখতাম; কিন্তু আমি থাকতাম কিতাব নিয়ে ব্যস্ত; পাতা উল্টানোয় লিপ্ত।”
.
ইলম কোন সহজ জিনিস নয়। যে অর্জন করার লক্ষ্যে সময় ব্যয় এবং কষ্ট স্বীকার করতে প্রস্তুত, তার নিকট ইলম এসে হাজির হয়। লেখক ছিলেন তেমনই একজন। তিনি তালেবে ইলেমদের উপদেশ দিয়েছেন পবিত্র কুরআন হিফজ এবং নিজেস্ব গ্রন্থাগারে নিম্নলিখিত কিতাব সংগ্রহে রাখতেঃ
.
১. আল্লাহ তা’লার মহাগ্রন্থ
২. সহিহ সিত্তা
৩. ফাতওয়া ইবনে তাইমিয়া
৪. ফাতাহুল বারী
৫. তাফসীরে ইবনে কাসীর
৬. মুগনী
৭. সুবুলুস সালাম
৮. নাইলুল আওতার
৯. আল বিদায়া ওয়ান নেহায়াহ
১০. যাদুল মাআদ
.
ইত্যাদি। এছাড়াও এখানে অনেক অসাধারণ কিতাবের নাম দেয়া আছে, যা দেখে পাঠক অভিভূত হতে বাধ্য। একজন তালেবে ইলমের সময়সূচী, হিফজ করার নিয়ম, অধ্যয়ন, মাসআলা যাচাই, গ্রন্থাগারের বিন্যাস, নির্জনতা অবলম্বন, তার লেবাস, আচার-ব্যবহার, ত্রুটি সংশোধন, ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে বইটি পড়ার মাধ্যমে যে কেউ ইলম অর্জনের সুবিন্যস্ত পথ খুঁজে পাবে।

Out of stock

লেখক

অনুবাদক

আব্দুল আলীম

প্রকাশনী

ভাষা

বাংলা

বইটাকে লেখকের আত্মকাহিনী বলা যায়। বইটিতে লেখক তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের পড়ার প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছে। লেখক জানান দেন শৈশব থেকে তিনি কিতাবপত্রকে সাথী,সঙ্গী ও বন্ধু বানিয়ে নিয়েছেন। একটি মুহূর্তকে তিনি অযথা নষ্ট করেননি। তিনি লিখেন “অধ্যয়নের কারণে আমি বাড়ি থেকে বের হতাম না। খাওয়া দাওয়ার আগে পরের সময় পড়তাম। খেতাম পড়তাম। হাটতাম, পড়তাম। বন্ধুরা ঘুরে বেড়াতো আমি পড়তাম। লোকজনের জমায়েতে, তাদের আনন্দ উল্লাস দেখতাম ; কিন্তু আমি কিতাব নিয়ে ব্যস্ত। পাতা উল্টানোয় লিপ্ত। কোনদিন দুইশ পৃষ্ঠা পড়তাম। কোনদিন এক খন্ড শেষ করতাম। কখনও একটি পৃষ্ঠা দশবার পড়তাম। গদ্যের একটি প্যারা পড়তে পড়তে মুখস্থ করপ ফেলতাম”

সামান্য বিবরণে তাঁকে অনেকটা রোবটের মত মনে হতে পারে। বইটিতে আরও চমৎকার বিবরণসহ লেখকের পড়াশোনার আশ্চর্য ঘটনা আছে। যা পড়ে দুর্বল পাঠক কল্পকাহিনী মনে করবে।

সেইসাথে বইয়ে আছে বিষয়ভিত্তিক পড়া বইয়ের লম্বা এক ফিরিস্তি। এবং একজন শিক্ষার্থী সফলতার চূড়ায় আরোহনের জন্য করনীয় ও বর্জনীয় পরামর্শ। কিভাবে পড়তে হয়। কিভাবে পড়া আয়ত্তে রাখতে হয়। পড়ার সময় কোন কোন বিষয়ের উপর পূর্ণ মনযোগ দিতে হয়। সভা সেমিনারে বক্তৃতার দেয়ার লক্ষণীয় বিষয়সহ একজন শিক্ষার্থীর যাবতীয় টিপসে ভরপুর একটি অমূল্য গ্রন্থ। যা অনুপ্রেরণা দিয়ে সামনে এগুতে সাহায্য করবে। খুলে দিবে সংকীর্ণ মনের হীনমন্নতা।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “আমি যেভাবে পড়তাম”

১ম ধাপ: পছন্দের বইটিকে CART এ এড করুন। অর্থাৎ 'এখনই কিনুন' বাটনে ক্লিক করুন
২য় ধাপ: এবার আপনার CART পেজ এ যান। (ওয়েবসাইট এর উপরের ডান কোণায় CART মেনুতে যান এবং VIEW CART এ ক্লিক করুন)
৩য় ধাপ: আপনার কার্ট আইটেমগুলো দেখে নিন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে Proceed to Checkout এ চলে যান।
৪র্থ ধাপ: আপনার শিপিং ঠিকানা ও বিবরণ দিন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
৫ম ধাপ: এরপর PLACE ORDER এ ক্লিক করুন।

একাধিক বই কিনতে: যতগুলো বই কিনতে চান সবগুলো CART এ এড করুন, তারপর চেকআউট করুন।

আপনি অর্ডার করার পর, আমরা পেমেন্ট চেক করবো এবং আপনার বই/বইগুলো ডেলিভারি দেয়া হবে। যে কোনও প্রকার হেল্প এর জন্য আমাদের ফোন অথবা মেইল করুন।