নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান

৳ 80

না, এটি কোনো যুক্তিখন্ডন মূলক বই নয়। এখানে সাজিদের বিতর্ক নেই, নেই ড. জাকির নায়েকের ‘ইটস এ ভেরী গুড কুয়েশচন’ বলে জবাব দিতে গিয়ে ‘কুয়েশচন’কারীর বারোটা বাজিয়ে দেয়া। এখানে নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর নেই, নেই সেক্যুলারদের ইসলাম বিদ্বেষের কোনো জবাব। এখানে আছে এক শিকড়ের গল্প; যে শিকড় থেকে বেড়ে ওঠা শাখা-প্রশাখা আজ যুবসমাজকে আধুনিকতার নামে নাস্তিকতার ঘৃণ্য জগতে প্রবেশ করতে বাধ্য করছে, সত্য – মিথ্যার মানদন্ডকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নৈতিকতাহীন পশুত্বের জীবনকে বেছে নিতে উৎসাহ যোগাচ্ছে।

লেখক

প্রকাশনী

ভাষা

বাংলা

না, এটি কোনো যুক্তিখন্ডন মূলক বই নয়। এখানে সাজিদের বিতর্ক নেই, নেই ড. জাকির নায়েকের ‘ইটস এ ভেরী গুড কুয়েশচন’ বলে জবাব দিতে গিয়ে ‘কুয়েশচন’কারীর বারোটা বাজিয়ে দেয়া। এখানে নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর নেই, নেই সেক্যুলারদের ইসলাম বিদ্বেষের কোনো জবাব। এখানে আছে এক শিকড়ের গল্প; যে শিকড় থেকে বেড়ে ওঠা শাখা-প্রশাখা আজ যুবসমাজকে আধুনিকতার নামে নাস্তিকতার ঘৃণ্য জগতে প্রবেশ করতে বাধ্য করছে, সত্য – মিথ্যার মানদন্ডকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নৈতিকতাহীন পশুত্বের জীবনকে বেছে নিতে উৎসাহ যোগাচ্ছে।

নাস্তিকতার সাথে প্রথম পরিচয় হয় বাংলা ব্যাকরণ বইয়ের ‘বাক্য সংকোচন’ অধ্যায়ে। সেখানে আমি জানতে পারলাম- যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেনা, তাদের নাস্তিক বলা হয়। মা-কে জিজ্ঞেস করলাম- ‘এরকম কেউ আছে নাকি যে আল্লাহতে বিশ্বাস করেনা?’। মায়ের জবাব- ‘আরে না! এদের সংখ্যা একেবারেই কম’। তবে আজ আমি উপলব্ধি করছি, এদের সংখ্যা আসলেই ‘কম’ নয়। আমার মা-ও এই ব্যাপারে অবগত। মুক্তমনা আর বুদ্ধিজীবীদের ছড়াছড়ি আজকাল কারও দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না। তবে খুব কম মানুষই এই ‘নাস্তিকদের’ উত্থান সম্বন্ধে জানে। অল্প সংখ্যক লোকেরাই ‘নাস্তিক্যবাদ’ নামক বিষাক্ত মতবাদের ইতিহাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। জ্বী, তাদের জন্যেই এই বই- ‘নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান।’

নাস্তিকতার ছোবলে যারা আক্রান্ত, তারা নিজেরাও হয়ত ‘নাস্তিক ও নাস্তিকতার পরিচয়’ সম্বন্ধে বেখবর। কেননা, প্রচলিত অর্থে আমরা যাদেরকে ‘নাস্তিক’ বলে থাকে, সেই ‘নাস্তিক’ শব্দের আরেক সাম্প্রদায়িক এবং পারিভাষিক ব্যাখ্যা আছে। যা ‘নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান’ বইটিতে লেখক প্রথমেই চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।

আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম, যখন দেখলাম, কোরআন এবং হাদীসে স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং পরকাল অস্বীকারকারী নাস্তিকদের ব্যাপারে আলোচনা আছে। নিজের চিন্তার গভীরতা নিয়ে আক্ষেপ হতে লাগলো আমার। এতো সহজ বিষয়; অথচ আয়াতসমূহ পড়ে আগে কখনোই এমনটা উপলব্ধি করতে পারিনি। তাছাড়া, বইটিতে ‘আধুনিক যুগে নাস্তিকতার প্রসার’- শিরোনাম দিয়ে যে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা হয়েছে, তা পড়ে পাঠক খুব সহজেই নাস্তিকতার ‘এলিট’ উপাধি পাওয়ার কারণ খুঁজে পাবেন।

‘নাস্তিকতার কারণ অনুসন্ধান’ করতে গিয়ে লেখক যেসকল কারণ একে একে তুলে ধরেছেন, তা যেন আমারই মনের কথা। ‘সত্যিকারের নাস্তিক’ বলতে কিছু নেই- তা আবারও প্রমাণিত হলো বইটির এই অধ্যায়ে। বেশিরভাগের ‘নাস্তিক’ হওয়ার কারণ হিসেবে কাজ করে আশেপাশের পরিবেশ।

ইতিহাস নিয়ে আমার প্রাথমিক জ্ঞানও নেই। কিন্তু কত সহজেই ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশের ধর্মীয় ইতিহাস’ সম্পর্কিত স্পষ্ট ধারণা পেয়ে গেলাম। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস’- অংশটিতে সামান্য কিছু কথায় বাংলার প্রাচীন আমল থেকে নিয়ে একাত্তরের স্বাধীনতালাভের সময় পর্যন্ত বেশ গোছানো আলোচনা করা হয়েছে। যে ইতিহাস জানতে ‘সামাজিক বিজ্ঞান’ বইয়ের ‘ইতিহাস অধ্যায়ে’ বেশ ধকল দিতে হয়েছে, সেই ইতিহাস এই গ্রন্থে কতই না সুন্দরভাবে মাত্র দুই – তিন পৃষ্ঠায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে! ‘বাংলাদেশের ধর্মীয় ইতিহাস’ পড়ে যখন জানতে পারলাম, এই বাংলায় কখনো ‘নাস্তিকতা’র ছিটেফোঁটাও ছিলোনা; তখন আমার মনে বেশকিছু প্রশ্ন ‘নাস্তিক’ শব্দটা নিয়ে খেলাধুলা করতে শুরু করে। আমার প্রশ্ন হলো- বর্তমানকালের কতিপয় বুদ্ধিজীবী ‘নাস্তিকতা’কে কেন ‘বাঙাল চেতনা’ হিসেবে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন? ‘বাঙালী দেশপ্রেমিক’ হতে হলে একজনকে ‘নাস্তিক মুক্তমনা’ এবং ‘শাহবাগী’ হতে হবে- এই হাস্যকর আদর্শ তারা কার কাছ থেকে ধার নিয়েছে? আল্লাহই ভালো জানেন।

এরপর লেখক বেশকিছু ‘নাস্তিকদের’ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যাদেরকে আধুনিক সমাজ বেশ ভালোভাবেই চেনে। ‘জাহিরি নাস্তিক বনাম বাতিনি নাস্তিক’- শিরোনামের লিখাটি পড়ে হেসেছি। এখানে লেখক ‘ফেইক আইডি’ চালিয়ে নাস্তিকতার ‘দাওয়াত’ দানকারীদের ভদ্রভাবে পঁচিয়েছেন। এরা লুকোচুরি খেলে, আমরা বিনোদিত হই।

নাস্তিকতাকে প্রতিরোধ করার উত্তম পদ্ধতিগুলো লেখক বইয়ের শেষ অংশে তুলে ধরেছেন। একজন সচেতন পাঠকের উচিত পদ্ধতিগুলোকে কাজে লাগানো। কেননা, এই বিষাক্ত মতবাদকে দূর করতে হলে ‘বিশ্বাসীমহল’কে জোরেশোরে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যেতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক ভাইয়েরাই সেই কাজে লেগে আছেন।

‘নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান’- বইটির সবচাইতে ভালো দিক হলো, এটি যেকোনো ব্যক্তিই পড়তে পারবেন। এখানে নেই কথাবার্তার জটিলতা, নেই শব্দচয়নে কাঠিন্য। গ্রন্থখানি এতোটাই সহজ ভাষায় লিখা হয়েছে যে, একজন মানুষের উচ্চমার্গীয় সাহিত্য জ্ঞান না থাকলেও বইটি থেকে উপকৃত হতে পারবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা লেখকের ইলম আরও বৃদ্ধি করে দিন, যুবসমাজকে নাস্তিকতা ছেড়ে দ্বীনের মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করার তাওফিক দান করুন।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “নাস্তিকতার স্বরূপ সন্ধান”

১ম ধাপ: পছন্দের বইটিকে CART এ এড করুন। অর্থাৎ 'এখনই কিনুন' বাটনে ক্লিক করুন
২য় ধাপ: এবার আপনার CART পেজ এ যান। (ওয়েবসাইট এর উপরের ডান কোণায় CART মেনুতে যান এবং VIEW CART এ ক্লিক করুন)
৩য় ধাপ: আপনার কার্ট আইটেমগুলো দেখে নিন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে Proceed to Checkout এ চলে যান।
৪র্থ ধাপ: আপনার শিপিং ঠিকানা ও বিবরণ দিন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
৫ম ধাপ: এরপর PLACE ORDER এ ক্লিক করুন।

একাধিক বই কিনতে: যতগুলো বই কিনতে চান সবগুলো CART এ এড করুন, তারপর চেকআউট করুন।

আপনি অর্ডার করার পর, আমরা পেমেন্ট চেক করবো এবং আপনার বই/বইগুলো ডেলিভারি দেয়া হবে। যে কোনও প্রকার হেল্প এর জন্য আমাদের ফোন অথবা মেইল করুন।