রাসুলের চোখে দুনিয়া

৳ 275 ৳ 193

এই বই পুরোটাই ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে। একজন মুসলিমের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে। তাই তো, নামটাও- ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’।

চশমা। একেকজন একেক ধরণের চশমা পরিধান করে বেঁচে থাকে, এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের চশমা কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে। অর্থাৎ, একজন মুসলিমের তেমন দৃষ্টিভঙ্গি’ই লালন করা উচিত, যেমন ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ছিলো আমাদের নবী – রাসূলগণের। কারণ, তাঁরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং আমাদের আদর্শ। সুতরাং, তাঁদের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’-ওয়ালা চশমা পরিধান করে দুনিয়াটাকে দেখা’ই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক

অনুবাদক

প্রকাশনী

দেশ

ভাষা

দু’জন ব্যক্তি একটি বস্তুর দিকে দুধরণের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাকায়; একজনের কাছে সেই বস্তুটি ‘ভালো’ মনে হয়, অপরজনের কাছে মনে হয় ‘তুচ্ছ’। দৃষ্টিভঙ্গি এমন এক বিষয়, যা একজন ব্যক্তির পুরো জীবনযাপনের ধরণ নির্ধারণ করে দেয়। প্রত্যেকটি মানুষের চালচলনের ফলাফল তার ‘দৃষ্টিভঙ্গি’র উপর নির্ভর করে। এজন্যেই আমেরিকার ফুটপাত দিয়ে একটি মেয়ে মিনি স্কার্ট পড়ে হাঁটলে কারও কাছে ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু মনে হয় না, কিন্তু বাংলাদেশের রাস্তায় কোনো মেয়ে এমনভাবে হাঁটলে সাথে সাথে লোকজনের চেহারা লজ্জায় লাল হয়ে যাবে, কেউ হয়ত ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবে। ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ এতটা’ই গুরুত্বপূর্ণ।

এই যে সুন্দর পৃথিবী, চারিদিকে ঝলমল করতে থাকা বিলাসিতা, ঐশ্বর্যের বিশাল পাহাড়; এখানে বেঁচে আছি আমরা একটি ‘দৃষ্টিভঙ্গি’কে আঁকড়ে ধরে। জেনে কিংবা না জেনে, আমরা প্রত্যেকেই এই পৃথিবীকে আপন ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করি। আমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় আমাদের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ এর ওপর ভিত্তি করে। যার ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ যত উন্নত, তার ‘এইম ইন লাইফ’ তত সুগঠিত। ‘দৃষ্টিভঙ্গি’- কে চশমার সাথে তুলনা করা যায়; কেউ যখন লাল চশমা পরিধান করে, তখন তার কাছে আশেপাশের সবকিছু ‘লাল’ বর্ণের মনে হয়। এটাই দৃষ্টিভঙ্গি।

এই বই পুরোটাই ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে। একজন মুসলিমের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়ে। তাই তো, নামটাও- ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’। ঐ যে বললাম না? চশমা। একেকজন একেক ধরণের চশমা পরিধান করে বেঁচে থাকে, এই দুনিয়ায় বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের চশমা কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে। অর্থাৎ, একজন মুসলিমের তেমন দৃষ্টিভঙ্গি’ই লালন করা উচিত, যেমন ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ছিলো আমাদের নবী – রাসূলগণের। কারণ, তাঁরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং আমাদের আদর্শ। সুতরাং, তাঁদের ‘দৃষ্টিভঙ্গি’-ওয়ালা চশমা পরিধান করে দুনিয়াটাকে দেখা’ই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

কিতাবুয যুহদের একটি অংশের অনুবাদ হলো- ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ- নামক এক মুজতাহিদ আলিমের লিখা এই বই। বইটির ‘রিভিউ’ লিখার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। ‘ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল’ নামটাই বইয়ের গুরুত্ব এবং লেভেল বুঝিয়ে দেয়। তবুও আমি অধম কিছু কথা বলতে চাই।

বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো ‘দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা’। অথচ আমাদেরকে এই দুনিয়াতে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য এটা ছিলো না। আমাদের এই দুনিয়ার জন্যে সৃষ্টি করা হয় নি। আমরা ছিলাম জান্নাতে, আবারও সেখানেই যেতে চাই; তাই ‘দুনিয়া’ আমাদের জন্য না। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ‘দুনিয়া’কে যেমনভাবে দেখতেন, আমরা কী সেভাবে দেখি? উঁহু, আমরা বরং এর উল্টোদিকে হাঁটি। ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’- বইটির প্রথমদিকে ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও দুনিয়া’ শিরোনাম দিয়ে সেখানে বেশকিছু হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে। এই হাদীস সমূহ পড়লে নিজেকে ধিক্কার দিতে মন চায়। আমরা কী সেই নবীর উম্মত যিনি কয়েকদিন যাবত পেটভরে উষ্ণ খাবার খান নি? আমরা কী সেই নবীর উম্মত যাঁর গৃহে কখনো কখনো একমাস পর্যন্ত কোনো রুটি বানানো হয় নি? আমরা কী সেই নবীর উম্মত যিনি বলেছেন, ‘জীর্ণতা ঈমানের অংশ’? হাদীস সমূহ আমাদের দিকে সেই প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দেয়।

বইটি মূলত বিভিন্ন নবী – রাসূলের দুনিয়া সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রচিত। এ জন্য অসংখ্য হাদীস সংগ্রহ করা হয়েছে। আদি পিতা আদম আলাইহিস সালামের জান্নাত হতে বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা, নূহ আলাইহিস সালামের সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার চমৎকার ঘটনা, ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া, ইউসুফ আলাইহিস সালামের তাকওয়াহ, আইয়ুব আলাইহিস সালামের ধৈর্য, ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা, মুসা আলাইহিস সালামের দুনিয়া সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রমুখ নবী – রাসূলগণের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’ বইটিতে।

অসংখ্য হাদীসের সমাহার এই বইটি পড়তে নির্দিষ্ট কোনো সময় লাগবেনা। যেকোনো মুহূর্তেই বইয়ের পাতায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাদীসগুলো পড়ে অন্তরে কোমলতার পরশ বুলিয়ে দেয়া যাবে। অশ্রুকণা গড়িয়ে পড়বে, হৃদয়ে আল্লাহভীতি তৈরি হবে, মনের দুশ্চিন্তা দূর হবে। কেননা, এই বইটি আমাদের ‘সংকোচিত’ দুনিয়ার মোহকে তুচ্ছজ্ঞান করে, ‘প্রশস্ত’ আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে আদেশ করবে। একজন দুনিয়াবিমুখ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। বারবার সতর্ক করবে এই বলে, “দুনিয়াটা দু’দিনের। আখিরাত চিরকালের।”

‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’- গ্রন্থখানি সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই। এটি কারও কাছ থেকে ধার করে এনে একটু আধটু পড়লে তেমন কোনো ফায়দা হবে না, এই বই হলো সংগ্রহের বই। একে যত্নের সাথে নিজের কাছে রাখা উচিত এবং পারিবারিকভাবে তা’লিমের মাধ্যমেও অধ্যয়ন করা উচিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেন আমাদের তাওফিক দান করেন। শেষ করবো ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ সম্পর্কিত একটি হাদীস দিয়ে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এ দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক? এ দুনিয়ার সাথে আমার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক অশ্বারোহীর ন্যায় যে প্রচণ্ড গরমের একদিন একটি গাছের ছায়ায় ঈষৎ নিদ্রা গেল, তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।”
[কিতাবুয যুহদ বা রাসূলের চোখে দুনিয়া, হাদীস: ৩৪]

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “রাসুলের চোখে দুনিয়া”

১ম ধাপ: পছন্দের বইটিকে CART এ এড করুন। অর্থাৎ 'এখনই কিনুন' বাটনে ক্লিক করুন
২য় ধাপ: এবার আপনার CART পেজ এ যান। (ওয়েবসাইট এর উপরের ডান কোণায় CART মেনুতে যান এবং VIEW CART এ ক্লিক করুন)
৩য় ধাপ: আপনার কার্ট আইটেমগুলো দেখে নিন এবং সবকিছু ঠিক থাকলে Proceed to Checkout এ চলে যান।
৪র্থ ধাপ: আপনার শিপিং ঠিকানা ও বিবরণ দিন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করুন
৫ম ধাপ: এরপর PLACE ORDER এ ক্লিক করুন।

একাধিক বই কিনতে: যতগুলো বই কিনতে চান সবগুলো CART এ এড করুন, তারপর চেকআউট করুন।

আপনি অর্ডার করার পর, আমরা পেমেন্ট চেক করবো এবং আপনার বই/বইগুলো ডেলিভারি দেয়া হবে। যে কোনও প্রকার হেল্প এর জন্য আমাদের ফোন অথবা মেইল করুন।