আরবীভাষা জানার সবচে উপকারী দিক হলো, কুরআন তিলাওয়াত করার সময় আল্লাহ তাআলা কী বলছেন তা আপনাআপনি বোঝা যায়। কুরআন বুঝে পড়লে সেই তিলাওয়াত অনেক বেশি প্রভাব ফেলে অন্তরে। অপার্থিব এক প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ের প্রতিটি অলিগলিতে। কখনো কখনো দেখা যায় নিজের অবস্থার সাথে অনেক আয়াত মিলে যায়। তখন মনে হতে থাকে, আমাকে উদ্দেশ্য করেই বুঝি এই কথাগুলো আল্লাহ তাআলা বলেছেন! 

আজকে আমি সূরা মুমিনুন তিলাওয়াত করছিলাম। চেষ্টা করছিলাম তিলাওয়াতের ভেতর দিয়েই অর্থগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে। এই সূরার শেষের দিকে এসে একটা আয়াতে আমার চোখ আটকে গেলো। আমি একবার পড়লাম। দুইবার পড়লাম। বারবার পড়লাম। তৃপ্তিতে আমার মনটা ভরে উঠলো। মনে হলো আত্মিক প্রশান্তির সরোবরে অবগাহন করে চলছি। সাতার কাটছি এপাশ থেকে ওপাশে, ওপাশ থেকে এপাশে। আমার কল্পনার পর্দায় ভেসে উঠছিলো পরিচিত অনেক ভাইদের কথা। মনে পড়ে যাচ্ছিলো অজানা-অচেনা অনেক বোনদের কথা। যারা দ্বীন মানার কারণে আপন সমাজের কাছে উপহাসের পাত্র হয় মাঝেমধ্যে। আত্মীয়-স্বজনরা তো বটেই, খোদ নিজ পরিবারের সদস্যরাও অনেক সময় তাদের নিয়ে উপহাস করে। তাদের দেখে টিপ্পনি কাটে। সুযোগ পেলেই দু-চার কথা শুনিয়ে দিয়ে খোঁচা মারতে ভুলে না। আমি নিশ্চিত, এমন ভাই-বোনেরা কুরআনের আয়াতটা চোখের সামনে রাখলে এসবকিছু তাদের কাছে তুচ্ছজ্ঞান হবে। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আমার বান্দাগণের মধ্যে একদল আছে, যারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি। অতএব আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ কিন্তু তাদেরকে নিয়ে তোমরা এতো ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতে যে, তা তোমাদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছিল আমার স্মরণ। আর তোমরা তাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টাই করতে। নিশ্চয় আমি আজ তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমনভাবে পুরস্কৃত করলাম যে, তারাই হল সফলকাম।” [সূরা মুমিনূন : ১০৯-১১১]

এই যে দ্বীন মানার কারণে প্রায়শই হাসি-ঠাট্টার শিকার হতে হয় আমাদের; এর বিনিময়ে আল্লাহ পরকালে আমাদের পুরস্কৃত করবেন; এরচে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে? আজকে দাড়ি রাখার কারণে কেউ হয়তো আমাদেরকে জঙ্গি বলছে, পর্দা করা শুরু করলে বলছে- লাদেন বাহিনীর সদস্য, পরকালের মহা সফলতার বিপরীতে এমব তাচ্ছিল্য অত্যন্ত তুচ্ছ। একজন মুমিন যখন কুরআনে এমন পরিষ্কার ঘোষণা পায় তার মহান রবের পক্ষ থেকে, তখন কারও কোন ঠাট্টা-মশকারি-তামাসা তাকে মনঃক্ষুণ্ণ করতে পারে না। দ্বীনের পথে অবিচলতাকে টলাতে পারে না। কারণ সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, এখন যাই হোক না হোক, বেলাশেষে বিজয়ের পুষ্পমাল্য গলায় পরে সফলতার হাসিটা সে-ই হাসবে। 

কুরআনের সাথে আমাদের আচরণ মন্ত্রের বইয়ের মতো। খুললাম, গুনগুনিয়ে পড়লাম আর গিলাফে পুরে তাকে তুলে রেখে দিলাম। কি পড়লাম তা জানলাম না। আল্লাহ তাআলা কী বলতে চাইলেন, তা বুঝলাম না। যার ফলে দেখা যায় কেউ একজন সকালে উঠে তিলাওয়াত করেছে। তার তিলাওয়াতকৃত আয়াতে হারাম না খাওয়া, সুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর যুদ্ধ ঘোষণা করা ইত্যাদি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। কিন্তু সে এর কিছুই জানলো না। ব্যাস, কুরআন তিলাওয়াত শেষে মুসহাফটা গিলাফে পেঁচিয়ে ব্যাংক থেকে সুদ তুলতে রওনা হয়ে গেলো কিংবা অফিসে ঘুষের জন্য আটকে রাখা ফাইলটা দফারফা করে কতো ইনকাম হবে সে হিসাব কষতে বসে গেলো। এসব কারণেই দেখা যায় কুরআন আমরা তিলাওয়াত করি কিন্তু কুরআনের শিক্ষা আমাদের বাস্তব জীবনে কোন প্রভাব ফেলে না। 

কুরআন বুঝে না পড়ার একটা কারণ হলো, অনুবাদ বোঝা বা তাফসীর পড়ার জন্য আলাদাভাবে সময় ব্যয় করতে হয়। আমরা তো সবাই আজকাল ত্রস্ত-ব্যস্ত। রাজ্যের কাজকাম নিয়ে ঘুরিফিরি। তাই আমাদের হাতে এতো সময় কোথায়? এই কারণে আরবীভাষা জানা থাকলে বাড়তি ফায়দা পাওয়া যায়। অনুবাদের জন্য আলাদা সময় বের করতে না পারলেও সমস্যা নাই। তিলাওয়াতের সময় ধ্যানটা একটু অর্থের দিকে ঘুরিয়ে দিলেই হয়ে যায়। 

মূলত কুরআন তিলাওয়াত একটা স্বতন্ত্র ইবাদাত। সেই কুরআনে আল্লাহ তাআলা কী বললেন তা জানা ও সেই আদেশ-নিষেধ-উপদেশ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা ভিন্ন ইবাদাত। দুইটার জন্যই আলাদা আলাদা সওয়াব রয়েছে। অনেককেই দেখা যায় সারাবছর কয় খতম করলেন সেই হিসেবে মত্ত থাকে। খতম তোলার সংখ্যাটা মোটাতাজা করাটাই তাদের কাছে মূখ্য। এটাই তাদের সুখ দেয় ও মনের ভেতর তৃপ্তির ঢেকুর জাগ্রত করে। অথচ সারাবছর অর্থ না বুঝে তিন খতম তিলাওয়াত করার চেয়ে অর্থসহ পড়ে এক খতম তিলাওয়াত করাটাই শ্রেয়। কারণ এতে ভিন্নধর্মী দুই ইবাদাতের সম্মিলন ঘটছে। নিশ্চয়ই একই স্বাদের খানা দিয়ে পেটের পুরোটা ভরাট করার চেয়ে এক স্বাদের খানা দিয়ে অর্ধেক, আর অন্য আরেক স্বাদের খানা দিয়ে বাকি অর্ধেক পুরা করা বুদ্ধিমানের কাজ। 

কুরআন বুঝে পড়ার সবচে মজার দিক হলো, আপনি হঠাৎ হঠাৎ দেখবেন এমন কিছু কথার সম্মুখীন হচ্ছেন যেন এগুলো সরাসরি আপনাকে বলা হচ্ছে। কিংবা যেন আপনার অবস্থাটাই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। ধরুন, আপনার মাথায় কোন একটা গুনাহ করার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। সে গুনাহতে আপনি এখনও জড়ান নি। তবে জড়াবেন জাড়বেন অবস্থা। এর মধ্যেই আপনি কুরআন তিলাওয়াত করতে বসলেন। আপনার সামনে এলো এই আয়াত: 

“আর যে তার রবের সামনে দাড়ানোকে ভয় করে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তির বাসনা চরিতার্থ করা থেকে বিরত রাখে তার অবস্থানস্থল হলো জান্নাত।” [সূরা নাযিআত : ৪০-৪১] 

আপনি নিশ্চিত জেনে রাখুন, তখন এই আয়াত আপনার হৃদয়-নদে চিন্তার ঢেউ তুলবে। আপনাকে ভাবনার অতল সমুদ্রে ছুঁড়ে মারবে। বাধ্য করবে এভাবে চিন্তা করতে, একদিকে আমার সামনে জান্নাতের হাতছানি, অপরদিকে পাপের সাময়িক স্বাদের লোভ। কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরি? বারবার এই আয়াতটা তিলাওয়াত করতে থাকুন এবং আপন মনে হিসেব কষতে থাকুন। একবার, দুইবার, তিনবার, বারবার বারাবার। দেখবেন আপনি হৃদয়ের গহীনে ঐশ্বরিক শক্তির অনুভূতি টের পাবেন। নিজের পাপের ইচ্ছার মুখে লাগাম পরানো তখন আপনার ‘বায়ে হাত কা খেল’ হয়ে যাবে। 

সুতরাং কুরআন বোঝার কোন বিকল্প নাই। কুরআন না বোঝা মানে হৃদয়ের দরজা তালাবদ্ধ হওয়া। যেই দরজা দিয়ে কখনো কল্যাণ-চিন্তার আগমন ঘটবে না। নিত্যনতুন মঙ্গলজনক ভাবনার উদয় হবে না। যে হৃদয় তালাবদ্ধ সে হৃদয় মাহরূম। আল্লাহ কুরআনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:

“তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে না, নাকি তাদের অন্তরগুলো তালাবদ্ধ?” [ সূরা মুহাম্মাদ : ২৪] 

বড় মায়ময় প্রশ্ন। যার থেকে ঝরে পড়ে অভিমানের ছটা। কেমন যেন এতো বড় দৌলত পেয়েও আমাদের গাফেল হয়ে থাকার ফলে আল্লাহ তাআলা শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে বললেন কথাটা। 

অনেকে আবার অদ্ভুব চিন্তা লালন করেন। কুরআনের অনুবাদ পড়ার পক্ষপাতী নন তারা। এ যেন হিন্দু ধর্মের পুরোহিততন্ত্রের ইসলামী সংস্করণ। কুরআনের অর্থই যদি না পড়ে, তবে কুরআনের মর্ম নিয়ে ভাববে কীভাবে? যদি বলেন, এই ভাবনার দরকার নাই তাহলে প্রশ্ন আসে, না ভাবলে হৃদয় তালাবদ্ধ হয়ে থাকার কথা আল্লাহ তাআলা কেন বললেন? বুঝা গেলো এটা ফাও কথা। বরং আমাদের অর্থ পড়তে হবে। কুরআন বুঝতে হবে। কুরআন নিয়ে ভাবতে হবে। তবে হ্যা, কোন কিছু বুঝে না আসলে বা জটিল মনে হলে আলেমদের কাছে যেতে হবে। নিজে নিজে পণ্ডিতি করার সুযোগ নাই। হয়তো কেউ কেউ স্ব-পণ্ডিত হয়ে যান বিধায় অনেকে কুরআনের অনুবাদ পড়তে বারণ করেন। এটা কেমন যেন মাথা ব্যাথার চিকিৎসাস্বরূপ মাথা কেটে ফেলা দেবার মতোই। আমাদেরকে এসকল প্রান্তিকতার বৃত্ত থেকে মুক্ত হয়ে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এটিই হলো সীরাতে মুস্তাকীম। 

কয়েক বছর আগে রমজানে তারাবির পর প্রতিদিন পঠিত অংশের এক দুই আয়াত নিয়ে কিছু কথা আলোচনা করতে হত আমাকে। শেষের দিন আমি চাইলাম তাদেরকে এমন কিছু বলি যা সুদূরপ্রসারী হবে। তাদেরকে যা বলেছিলাম সেগুলোই এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। 

সুরা ফাতেহা হল কুরআন নামক শহরের প্রবেশ পথ। তারপরের সুরাটির নাম বাকারা। যার মানে হল গরু। এটি একটি নির্বোধ প্রাণী। যার ভালো-মন্দ, সঠিক-বেঠিক ও কল্যাণ-অকল্যাণের কোন জ্ঞান নেই। তাকে ডানে যেতে বলা হলে সে যায় বামে। বামে যেতে বলা হলে যায় ডানে। সে বৈধ-অবৈধ বুঝে না। যারতার ফসলে মুখ ঢুকিয়ে দেয়। তো কেমন যেন, একজন মানুষ কুরআনের সংস্পর্শে আসার আগ পর্যন্ত তার অবস্থা একটা নির্বোধ গরুর মতোই। তারমধ্যে ভালো-মন্দ ও সঠিক-বেঠিকের কোন জ্ঞান থাকে না। তার জীবনটা হয় সেচ্ছাচারিতায় পরিপূর্ণ। 

তারপর গরুর মতো নির্বোধ একজন ব্যক্তি কুরআন নামক শহরটির রাস্তা ধরে এগুতে থাকে। আস্তে আস্তে এক আয়াত করে করে সামনে বাড়তে থাকে এবং সেসব আয়াতে পাওয়া হুকুম-আহকাম, আদেশ-নিষেধ, উপদেশ-নসীহতগুলো গ্রহণ করে নেয়। নিজের জীবনে সেগুলোর বাস্তবায়ন ঘটায় এবং দেখতে দেখতে এক সময় সে শহরের শেষ ফটকে পৌঁছে যায়। যার নাম হল সুরা নাস। নাস শব্দটি ইনসান শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হল মানুষ। তারমানে যে লোকটি কুরআনের কাছে আসার সময় গরুর মতো নির্বোধ ছিল, তার ভালো-মন্দের জ্ঞান ছিল না, পুরো শহর ঘুরে শেষ প্রান্তে আসার পর এখন আর সে গরুর মতো নির্বোধ নয়। বরং জ্ঞানসম্পন্ন একজন মানুষে পরিণত হয়েছে। তার এখন সঠিক-বেঠিকের বুঝ আছে। কুরআনের সুরাগুলোর ধারাবিন্যাসের মাঝেই কেমন যেন আমাদেরকে এই ইঙ্গিতটা দেওয়া হয়েছে। 

প্রশ্ন হল, বহু লোককেই তো দেখি সারাজীবন বহুবার কুরআন খতম করেছেন। কিন্তু কই, তারা তো মানুষের কাতারে আসতে পারে নি! কুরআন তার জীবনে কোন পরিবর্তনই আনে নি। সে আগের মতোই মিথ্যা বলে। মানুষকে গালি দেয়। মা-বাবাকে কষ্ট দেয়। সুযোগ পেলে চুরি করে। অন্যের সম্পদ মেরে দেয়। 
গরুর মতোই সে নির্বোধ রয়ে গেছে। আসলে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, এই লোক শুধুই কুরআন অন্ধের মতো পড়ে গেছে। এর অর্থ জানার চেষ্টা করে নি কোনদিন। 

সকালে সে যে আয়াতগুলো তেলাওয়াত করেছে সেখানে বলা হয়েছিল, তোমরা মা-বাবাকে ‘উফ’ পর্যন্ত বলো না। অথচ সে কুরআন তেলাওয়াতটা শেষ করেই মা-বাবার সাথে কটুবাক্যে কথা বলা শুরু করলো। একটু আগে সে পড়েছিল, আল্লাহর নাফরমানি করো না। তবে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। সে কুআরনটা গিলাফে ভরেই টিভির রিমোট হাতে নিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখতে বসে গেল। কিংবা অফিসে গিয়ে ঘুষ নেওয়ার ধান্ধায় ডুবে গেল। আজ যদি সে যতোটুকু তেলাওয়াত করেছে তার অনুবাদটাও পড়ে নিতো সাথে, তবে মা-বাবার সাথে কটুবাক্যে কথা বলতে গেলেই তার মনে আসতো, একটু আগেই না এই বিষয়ে কুরআন আমাকে নিষেধ করেছিল! তদ্রুপ সিনেমা দেখতে বসার আগে বা অফিসে ঘুষের টাকাটা নেওয়ার সময় মনের পর্দায় ভেসে উঠতো সকালের পঠিত আয়াতের হুশিয়ারি বাক্যগুলো। ফলে সে পাপটা করতে পারতো না। করলেও তার ভেতরে ভয়টা থেকে যেত। যা তাকে পরবর্তীতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চাওয়ার পথে নিয়ে যাবার এটা সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যেহুতু সে কুরআন নামক শহরটাতে ভ্রমন করেছে চোখ বন্ধ করে। কুরআনে কি বলা হয়েছে এটা সে জানতে পারে নি তাই কুরআনের শিক্ষাগুলো তার জীবনে কোন প্রভাব ফেলে নি। সে রয়ে গেছে আগের মতোই। 

মূলত অর্থ না বুঝে শুধু তেলাওয়াত করাও একটা ইবাদাত। এটা অস্বীকার করার বা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর জন্যও প্রতি অক্ষরে কমপক্ষে দশ নেকি পাওয়া যাওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। তদ্রুপ কুরআনে গচ্ছিত বিষয় থেকে শিক্ষা নেওয়া, সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করাও আরেকটা ইবাদাত। এটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আল্লাহ তাআলা কতো দরদের সাথে বলছেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি। সুতরাং কোন উপদেশ গ্রহণকারী নাই কি! সুবহানআল্লাহ, কতো মায়াভরা আহবান।

তো যারা শুধু তেলাওয়াত করে তাদের একটা ইবাদাত হয়। আর যারা তেলাওয়াত করে এবং অর্থ না বুঝলে পঠিত অংশের অনুবাদ, সুযোগ হলে সাথে সংক্ষিপ্তাকারে হলেও তাফসিরটাও দেখে নেয় তাদের হয় দুইটা ইবাদাত। এরাই হচ্ছে বেশি সফলকাম। তাই যিনি দৈনিক দুই রুকু তেলাওয়াত করেন তিনি যদি তার স্থলে এক রুকু তেলাওয়াত করেন এবং অপর রুকুর স্থলে পঠিত রুকুর অনুবাদ পড়ে নেন সেটাই হবে বেশি ফলপ্রসু ও উপকারী। 

আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলছেন, তারা কেন কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তরগুলো তালাবদ্ধ! এই আয়াত থেকেও বুঝে আসে তেলাওয়াতের পাশাপাশি পঠিত অংশটুকুর অর্থ জেনে নেওয়াটা আমাদের জন্য কতোটা গুরুত্ব বহন করে। তাই আসুন, আমরা শুধু তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অর্থ জানার প্রতিও মনোযোগী হই। সারাজীবন শুধু এক ধরনের ইবাদাত না করে দুই ধরনের ইবাদাতে সচেষ্ট হই। তবেই পঞ্চাশ পঞ্চাশে আমাদের কুরআন তেলাওয়াত একশত ভাগ পূর্ণতা লাভ করবে। 

আমার কথাগুলো শেষ হবার পর দেখেছিলাম শ্রোতারা জ্বলজ্বলে চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের মুখাবয়বে অন্য রকম প্রশান্তির ছাপ।

আবদুল্লাহ আল মাসউদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 18 =