রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের দোরগোড়ায় দণ্ডায়মান। মুসলিমদের আনুষ্ঠানিক আনন্দের দিনগুলোর একটি এটি। এই আনন্দ গুনাহ মুক্তির আনন্দ। এই আনন্দ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা করার তাওফীক পাবার আনন্দ। এই আনন্দ নিজেকে পরিশুদ্ধ করার আনন্দ। এই আনন্দের দিনটি সালাফরা কীভাবে পালন করতেন তার কিছু দিক আমরা এখন জানবো। যাতে করে তাদের মতো করে আমরা ঈদের দিনটি কাটাতে পারি।

১.
ঈদের দিন আসলে ঈদের সালাতের পর সাহাবিরা একে অপরের সাথে সাক্ষাতের সময় ঈদ-সম্ভাষণ জানাতেন এই বলে, তাক্বব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।
অর্থাৎ ‘আল্লাহ তোমাদের ও আমাদের (নেকআমল) কবুল করে নিন।’ [১]

তবে এর সাথে ঈদ মুবারক বলতেও সমস্যা নেই। সালেহ আল উসাইমিন হাফিজাহুল্লাহকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ঈদ-সম্ভাষণ জায়েয। এর জন্য সুনির্ধারিত শব্দ নেই। মানু্ষের প্রচলন অনুযায়ী তা বলা বৈধ। যতোক্ষণ না সেটি পাপ-যুক্ত কিছু হয়।'[২]

তবে হুবহু সালাফদের শব্দে সম্ভাষণ। জানানো অধিক উত্তম। কারণ এতে তাদের বেশি অনুসরণ করা হয়।

২.
ঈদের দিন সালাফরা চক্ষু হিফাজতের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। কারণ এই দিনে আনন্দের ভিড়ে গুনাহের অনেক উপকরণ ছড়িয়ে থাকে।

ওকী ইবনুল জাররাহ বলেন, ‘আমি সুফিয়ান সাওরীর সাথে ঈদের দিন বের হলাম। আমরা প্রথম যে কাজটি করলাম তা হলো দৃষ্টি অবনত রাখা।’ [৩]

সুতরাং আমাদেরও উচিত ঈদের দিন দৃষ্টির ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা। রাস্তাঘাটে দৃষ্টিকে অবনত রাখা। কারণ এদিন প্রচুর বেপর্দার গুনাহে মানুষ আক্রান্ত হয়।

৩.
সবচে সুন্দর পোশাক পরিধান করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করাও তাদের এই দিনের রীতি ছিলো। কারণ হাদীস থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইমাম বাইহাকী বর্ণনা করেন, ‘ঈদের দিন ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহুআনহু সবচে সুন্দর জামা পরিধান করতেন ও সবচে ভালো সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।’ [৪]

ঈদের দিন নতুন কাপড় পরিধান করা জরুরি কিছু নয়। বরং মূল বিষয় হলো নিজের কাছে থাকা সবচে ভালো ও সুন্দর জামাটা পরা। চাই তা নতুন হোক বা পুরাতন।

৪.
সাধ্যানুযায়ী আনন্দ-বিনোদন করা। তবে অবশ্যই তা যেন শরীয়ত-পরিপন্থী না হয়। ইবনে হাজার আসকালী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘ঈদের দিনগুলিতে আনন্দ প্রকাশ করা দ্বীনের নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।'[৫]

সেজন্য ঈদের দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। ছোটদের জন্য জ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

৫.
আনন্দের পাশাপাশি অনেকে অনেকে আবার ভারাক্রান্তও হতেন। ইবনে রজব হাম্বলী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘একজন সালাফকে ঈদের দিন বিমর্ষ দেখা গেলো। যখন তাকে বলা হলো, এটা আনন্দ ও খুশির দিন! তিনি বললেন, তুমি সত্যই বলেছো। তবে আমি একজন গোলাম। মনিব যাকে আদেশ করেছিলেন তার জন্য কাজ করতে। আমি জানি না তা গৃহীত হবে না হবে না![৬]

 

তথ্যসূত্র:
১। ফাতহুল বারী ২/৪৪৬; মাজমুউল ফাতাওয়া লি ইবনি তাইমিয়া ২৪/২৫৩
২। মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনু উসাইমিন
৩। আলওরা’, ইবনু আবিদ্দুনয়া: ৬৩
৪। সুনানে বাইহাকী: ৩/৩৮৮
৫। ফাতহুল বারী ২/৪৪৩, আরবীপাঠ: إظهار السرور في الأعياد من شعار الدين
৬। লাতাইফুল মাআরিফ: ১৬৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =