একজন মানুষ যখন বই-পুস্তক রচনা করে, তখন তার রচনাতে সমকালীন পরিবেশ-পরিস্থির একটা ছোঁয়া অত্যাবশ্যকীয়ভাবে যুক্ত থাকে। লেখকের লেখায় ছড়িয়ে থাকে তার নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, মনোবল ও মানসিক অবস্থানের ছাপ। বই-পুস্তকের পাঠকরাও অটোমেটিকভাবে লেখকের যুগের সেই প্রভাব দ্বারা প্রভাবান্বিত হন।

সালাফরা ছিলেন ইসলামের বিজয়ী-যুগের বাসিন্দা। তাদের সময়টাতে ইসলামের নিশান মাথা উঁচু করে পতপত করে উড়তো। সর্বত্র ছিলো ইসলাম ও মুসলিমদের জয়জয়কার। জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও সমরাস্ত্র-কৌশলে সর্বক্ষেত্রে মুসলিমরা ছিলো আগুয়ান। ফলে সালাফদের মধ্যে হীনমন্যতা ছিলো না। তারা বুক উঁচিয়ে চলাফেরা করতেন। ইসলামের কথা বলতেন নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে। দ্বীনের কথা বলতে গিয়ে ছল-ছাতুরির আশ্রয় তাদের নিতে হতো না। কুফুরি-শক্তির মন রক্ষা করে বা কথিত হেকমতের চাদর গায়ে চড়িয়ে কলম হাতে তুলে নেবার প্রয়োজন ছিলো না তাদের। এসব কারণেই তাদের বইপত্রে ইসলামের সঠিক ব্যখ্যা, স্পৃহা আর জৌলুস পাওয়া যায়। লেখকের লেখার ভেতর দিয়ে যেহেতু পাঠক প্রভাবিত হয় ফলে ইসলামের বিজয়ী-যুগের সেই উন্নত মনোবল আর উদ্দীপনা একজন পাঠক তাদের রচনাবলি পাঠ করার সময় অনুভব করেন।

বর্তমান সময়ের লেখকরা প্রচলিত অনৈসলামিক সমাজ-ব্যবস্থা, দ্বীনহীন পরিবেশ-পরিস্থি ও মুসলিমদের অধোপতনের যুগে বসবাস করার কারণে তাদের লেখায় সালাফদের লেখনির মতো সেই ধার ও ভার খুব কমই পাওয়া যায়। অনেকে তো আপোসকামিতার মনোভাবের কারণে ইসলামকেই কাটছাঁট করে ফেলা বা সঠিক ব্যাখ্যাকে ভুল ব্যাখ্যার জামা পরিধান করানোর পথে হাঁটেন। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। কিন্তু সেটা কখনোই সালাফদের রচনাবলির স্তরে উন্নীত নয়।

এসব কারণেই বর্তমান যুগের লেখকদেন বইপত্র পড়ার পাশাপাশি আমাদের উচিত সালাফদের লেখা বইপত্র অধিকহারে অধ্যয়ন করা। তাদের রেখে যাওয়া সম্পদকে মূল্যায়ন করা। যাতে করে ইসলামের সোনালী যুগের প্রভাব দ্বারা আমরা প্রভাবান্বিত হতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − 2 =